বৃহস্পতিবার, ২৯ জানুয়ারী ২০২৬, ০৯:২৬ পূর্বাহ্ন
প্রতিদিন ডেস্কঃ
মার্কিন উড়োজাহাজ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান বোয়িং থেকে ১৪টি উড়োজাহাজ কেনার বিষয়ে চূড়ান্ত দরকষাকষিতে রয়েছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স। সবকিছু ঠিক থাকলে চলতি মাসেই এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক চুক্তি সই হতে পারে।
বিমান সূত্রে জানা গেছে, বোয়িংয়ের কাছ থেকে ১০টি ড্রিমলাইনার (৭৮৭-৯ ও ৭৮৭-১০ সিরিজ) এবং ৪টি বোয়িং ৭৩৭ ম্যাক্স উড়োজাহাজ কেনার প্রাথমিক দাম চাওয়া হয়েছে প্রায় ৩৭০ কোটি ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় ৩৭ হাজার কোটি টাকার বেশি। দামের বিষয়ে সর্বোচ্চ ছাড় আদায়কে অগ্রাধিকার দিলেও বোয়িংয়ের কাছে আরো অন্তত ২০টি শর্ত দিয়েছে বিমান।
সূত্র জানায়, ১৪টি উড়োজাহাজ কেনার প্রস্তাবে সরকারের সম্মতি এবং বিমান পরিচালনা পর্ষদের নীতিগত অনুমোদনের পর বর্তমানে দরকষাকষি চলছে। এ ছাড়া বোয়িংয়ের কাছে অন্তত ১৯টি ইস্যুতে প্রস্তাব দিয়েছে বিমান কর্তৃপক্ষ।
অন্যদিকে বোয়িংও দামে ছাড় দেওয়ার মানসিকতা নিয়ে একটি সংশোধিত খসড়া প্রস্তুত করেছে, যা শিগগিরই বিমানের কাছে পাঠানো হবে। খসড়ায় উভয় পক্ষ একমত হলে দ্রুত চুক্তি সইয়ের দিন-ক্ষণ নির্ধারণ করা হবে। চলতি মাসেই সেটি সম্পন্ন হতে পারে বলে ইঙ্গিত দিয়েছে বিমানের শীর্ষ মহল।
এ বিষয়ে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন উপদেষ্টা শেখ বশির উদ্দীন গত মঙ্গলবার আমার দেশ-কে বলেন, বোয়িংয়ের সঙ্গে নেগোসিয়েশন চলছে। এখনো চুক্তির তারিখ চূড়ান্ত হয়নি।
বিমান সূত্র জানায়, ড্রিমলাইনার ৭৮৭-৯ সিরিজের প্রতিটির দাম চাওয়া হয়েছে ১৭৫ মিলিয়ন ডলার, যা ২০২৪ সালের ডলারের বাজারমূল্যে নির্ধারণ করা হয়েছে। ডেলিভারির সময়—২০৩১ ও ২০৩৫ সালে তৎকালীন ডলারের মূল্য অনুযায়ী পরিশোধ করতে হবে এবং এর সঙ্গে মূল্যস্ফীতির সমন্বয় যুক্ত হবে।
বিমানের হিসাব অনুযায়ী, প্রতিটি ড্রিমলাইনারের দাম বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় দুই হাজার ১৫০ কোটি টাকা ধরা হলেও ন্যূনতম ৬০ শতাংশ ছাড় দিলে দাম দাঁড়ায় প্রায় ৮৬০ কোটি টাকা। এর সঙ্গে ডেলিভারি বছরের মূল্যস্ফীতির কারণে অতিরিক্ত প্রায় ৪০ কোটি টাকা যোগ হলে প্রতিটি ড্রিমলাইনারের চূড়ান্ত দাম হবে প্রায় ৯০০ কোটি টাকা।
একইভাবে বোয়িং ৭৩৭ ম্যাক্স উড়োজাহাজের প্রতিটির দাম চাওয়া হয়েছে ৬৩ মিলিয়ন ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৭৭৩ কোটি টাকা। ৬০ শতাংশ ছাড়ে তা কমে দাঁড়ায় প্রায় ৩১০ কোটি টাকা, তবে এখানেও মূল্যস্ফীতির প্রভাব যুক্ত হবে। চূড়ান্ত দরদামে বড় ধরনের পার্থক্য নির্ভর করবে বোয়িং প্রদত্ত কমিশনের ওপর, যা সাধারণত ৪০ থেকে ৮০ শতাংশ পর্যন্ত হয়ে থাকে।